Monday , June 21 2021

মোহামেডান-মেরিনার্স কর্মকর্তাদের কঠিন শাস্তি …- 708 019 | কালের কণ্ঠ



ক্রীড়া প্রতিবেদক: মোহামেডান ও মেরিনার্সের খেলোয়াড়, কর্মকর্তাদের উচ্ছৃঙ্খল আচরণে পণ্ড হয়ে গিয়েছিল গত প্রিমিয়ার হকি লিগের শিরোপা নির্ধারণী শেষ ম্যাচ. চার মাস ঝুলে থাকার পর চ্যাম্পিয়নশিপের সিদ্ধান্ত হয়েছে শেষ পর্যন্ত টেবিলে. সেই ম্যাচের পয়েন্ট ভাগাভাগি করে মোহামেডানকেই শিরোপাজয়ী হিসেবে ঘোষণা করে ফেডারেশন. মোহামেডান ক্লাব কিছুদিন আগে জাঁকজমকের সঙ্গে সেই সাফল্য উদ্যাপনও করেছে. তবে ফেডারেশন শিরোপার ওই ঘোষণার সঙ্গেই জানিয়ে রেখেছিল, উচ্ছৃঙ্খল আচরণের ব্যাপারটি তারা ভুলে যায়নি, সে ব্যাপারে কঠিন শাস্তিরই ইঙ্গিত ছিল তাদের. কাল তা-ই হয়েছে. হকি থেকে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন মোহামেডান, মেরিনার্সের দুই শীর্ষ কর্মকর্তা.

মোহামেডানের ম্যানেজার আরিফুল হক প্রিন্সের সঙ্গে সহকারী ম্যানেজার আসাদুজ্জামান চন্দন এবং মেরিনার্সের সাধারণ সম্পাদক হাসান উল্লাহ খান রানা নিষিদ্ধ হয়েছেন পাঁচ বছরের জন্য. মেরিনার্সের ম্যানেজার নজরুল ইসলামকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে তিন বছরের জন্য. সে ম্যাচের টেকনিক্যাল কর্মকর্তা নাজিরুল ইসলামকেও আগামী তিন বছর নিষিদ্ধ করা হয়েছে এই দায়িত্বে. কাল বিমানবাহিনীর ফ্যালকন হলে ফেডারেশন সভাপতি ও এয়ার চিফ মার্শাল মাশিহুজ্জামান সেরনিয়াবাতের সভাপতিত্বে ফেডারেশনের গভর্নিং বডির সভায় হয়েছে সিদ্ধান্তগুলো. সভাশেষে শাস্তির প্রসঙ্গে সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাদেক বলেছেন, 'ওই ম্যাচে প্রিন্স, চন্দন মাঠে ঢুকে আম্পায়ারদের ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি ফেডারেশন কর্মকর্তাদের গালাগালি করেছেন. মেরিনার্স ম্যানেজার নজরুল ইসলামও ভয়ভীতি দেখান, চেয়ার ভাঙচুর করেন. সাধারণ সম্পাদক রানা ২0-২5 জন লোক নিয়ে রেফারেল আম্পায়ারদের কক্ষে ঢুকে গিয়েছিলেন, সেখানে তাঁদের ভয়ভীতি দেখিয়েছেন. হকির জন্য কলঙ্কিত একটি দিন ছিল সেটি. শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিকভাবেও আমাদের হকি সমালোচিত হয়েছে এই ঘটনায়. যে কারণে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির সিদ্ধান্ত আমাদের নিতেই হয়েছে. '

সাদেক জানিয়েছেন, 'রানা, প্রিন্স ও চন্দন এর আগেও শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য অভিযুক্ত হয়েছেন, জরিমানাও গুনতে হয় তাদের. শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে সেই রেকর্ডও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে. 'একই সভায় নেওয়া আরেকটি বড় সিদ্ধান্ত হলো-শীর্ষ ক্লাব ঊষাকে প্রিমিয়ার থেকে অবনমিত করা. গত প্রিমিয়ার লিগে অংশ নেয়নি দলটি, বাইলজ অনুযায়ী তাদের অবনমিতই হওয়ার কথা. ফেডারেশন এতে শৈথিল্য দেখানোর কোনো কারণ খুঁজে পায়নি, 'ঊষার ব্যাপারে এর বাইরে আমাদের আর কিছু করার ছিল না. দলটি এমনটা করল তৃতীয়বারের মতো. এর আগেও কিন্তু দুইবার অবনমিত হয়েছে তারা. সেই একই কাজ আবারও করার পর আমাদের তো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া আর কিছু করার থাকে না. '

নানা অভিযোগ তুলে এর আগে ফেডারেশনের কর্মকাণ্ডে অনাস্থা জানিয়ে লিগ থেকে দূরে থেকেছে মোহামেডান ও মেরিনার্স. শীর্ষ কর্মকর্তাদের এমন কঠোর শাস্তির পর আবারও যদি ক্লাব দুটি সে পথেই হাঁটে তাহলেও শেষ পর্যন্ত হকিরই ক্ষতি. সাদেকের উত্তর, 'শৃঙ্খলার ব্যাপারে আমাদের কঠোর হতেই হবে. বিদেশি আম্পায়াররা সেদিন ছিলেন. তাঁরা বলে গেছেন এএইচএফ বা এফআইএইচে তাঁরা অভিযোগ করবেন. যদি করতেন তাহলে আমাদের হকির ওপরই কিন্তু নিষেধাজ্ঞা নেমে আসতে পারত. 'আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া বিজয় দিবস হকিতেও শৃঙ্খলার ব্যাপারে অনমনীয় থাকার কথা জানিয়েছেন ফেডারেশন সম্পাদক. ফেডারেশন সভাপতি মাঠে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর জোর দিয়েছেন.


Source link